ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার আগে জেনে নিন! Leave a comment

ই-কমার্স ব্যবসায়ে বাংলাদেশ খুব দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার সঠিক সময়। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন এবং সেই সাফল্য ধরে রাখার বিশেষ কিছু উপায়: পণ্যের মান ঠিক রাখা ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে অপরিহার্য বিষয়। পণ্যের মান যদি খারাপ হয় তাহলে দ্বিতীয়বার ক্রেতা আর কিনতে চাইবে না, এটা অন্য ক্রেতাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়বে। ব্যবসা কখনও একদিনে হয় না, ব্যবসা ধরে রাখার বিষয়, তাই পণ্যের মান সব সময় ভালো রাখতে হবে।

পণ্যের দাম এমন রাখার চেষ্টা করবেন যা বেশিও না, আবার খুব কমও না। অতিরিক্ত দাম ধরলে আপনি ক্রেতা পাবেন না, আবার কম দাম হলে অনেকে পণ্যের মান সম্পর্কে সন্দেহ করবে। সুতরাং বাজারে অন্যান্য ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোর পণ্যের দাম দেখে একটি প্রতিযোগিতামূলক দাম রাখবেন।
ক্রেতার জন্য অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা রাখুন। বর্তমানে ব্যাংক কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে এবং মানুষ অনলাইন শপিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। তাই এই সুবিধা রাখলে ক্রেতা কমফোর্ট ফিল করবে। তবে অনেক ক্রেতা মনে করেন, অনলাইনে কেনাকাটা করলে হয়তো তাদের কার্ড থেকে বাড়তি টাকা কেটে রাখা হয়, যা একটি ভুল ধারণা। ক্রেতার কার্ড থেকে যে বাড়তি কোনও টাকা কেটে নেওয়া হবে না, এই মেসেজটি দিয়ে আপনি ক্রেতাকে আকৃষ্ট করুন। পাশাপাশি, এই মেসেজটিও আপনার ক্রেতাকে দিন, তিনি তার কার্ড নম্বরটি ব্যাংকের পেজে লিখবেন, যা সম্পূর্ণ নিরাপদ; আপনি তার কার্ডের কোনও গোপন তথ্য জমা রাখছেন না। তাহলে আপনার ক্রেতা এই মেসেজে স্বস্তিবোধ করবেন যে তিনি নিরাপদভাবেই টাকা দিচ্ছেন। এই মেসেজগুলো আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যদি আপনি আপনার ক্রেতার কাছে তুলে ধরতে পারেন তাহলে অনলাইনে পেমেন্ট করে কেনাকাটার হার বৃদ্ধি পাবে। অনলাইনে যারা কেনাকাটা করেন তাদের অনেকেই শৌখিন, অভিজাত এবং এই ধরনের ক্রেতাগোষ্ঠী ধরতে পারলে আপনার ব্যবসা স্থিতিশীল হবে।
ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য মাঝে মাঝেই কিছু না কিছু অফার বা ছাড়ে ব্যবস্থা রাখুন। আর এসব অফার ফেসবুকের মাধ্যমে শেয়ার করুন। দেখবেন এতে করে ক্রেতা আকৃষ্ট হবে। বিক্রি তো অনেকেই করে, সেটা আকর্ষণ না, ক্রেতার আকর্ষণ হলো নানান রকম ছাড় আর অফার।

মার্কেটিং, বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান ই-কমার্স ব্যবসাকে জনপ্রিয় করার জন্য সব থেকে বড় হাতিয়ার। ফেসবুক মার্কেটিংয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কিভাবে ফেসবুকে মার্কেটিং করতে হয়। শুধু ডলার খরচ করলেই ভালো মার্কেটিং হয় না। এরজন্য আপনাকে আপনার টার্গেট করা ক্রেতা, তাদের পছন্দ, কেনাকাটার ধরন, কেনাকাটার সময় এবং ইচ্ছার ওপর গবেষণা করতে হবে।

একটি অর্ডার হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই যদি আপনার অপরেটর ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে আপনার ক্রেতা আপনাকে নির্ভরযোগ্য মনে করবে। অর্ডার ডেলিভারি হতে যদি দেরি হয়, তাহলে দ্রুত ক্রেতাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া উচিত এবং তার কাছে সময় চেয়ে নেওয়া উচিত; এতে করে আপনার ক্রেতা অপেক্ষা করে বিরক্ত হবে না। অর্ডার ডেলিভারি হওয়ার পর যদি আপনি তাকে এক মিনিট কল করে তার কাছে আপনার ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা জানতে চান তাহলে ক্রেতা খুশি হবে। এভাবে সুন্দর ব্যবহারের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফলে আপনার প্রতি আপনার ক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা এবং আকৃষ্টতা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

ওয়েবসাইটকে অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ বা জটিল করবেন না, সুন্দর এবং সহজভাবে ক্রেতার সামনে পণ্যগুলো তুলে ধরুন। যেসব পণ্য খুব বেশি বিক্রি হয়, জনপ্রিয় সেগুলো প্রথম পেজে রাখবেন যেন পণ্যগুলো অর্ডার করা ক্রেতার জন্য খুব সহজ হয়।

বর্তমানে যারা ই-কমার্স ব্যবসা করছেন, তারা অনেকেই একটি বিষয় তাদের ওয়েবসাইটে রাখতে ভুলে যান, কেনাকাটার শর্তাবলী ও নীতিমালা। আপনার পণ্য এবং ব্যবসার বৈধতা আছে কি না, কেন আপনার কাছ থেকে কেনা নিরাপদ, কত সময়ের মধ্যে আপনি পণ্য ডেলিভারি করবেন, পণ্যে সমস্যা থাকলে ক্রেতা কি সুবিধা পাবে, কিভাবে ক্রেতা অর্ডার বাতিল করতে পারবে, অনলাইনে একজন ক্রেতা পেমেন্ট করে অর্ডার করে ফেলার পর কোনও কারণে অর্ডারটি ডেলিভারি করা সম্ভব না হলে আপনি তাকে কি সুবিধা দেবেন- ইত্যাদি কেনাকাটা সম্পর্কিত ব্যাপারগুলো যদি ওয়েবসাইটে সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে লিখিত রাখেন,তাহলে ক্রেতা অর্ডার করার সময় এগুলো পড়ে তারপর তাকে অর্ডার করতে অনুরোধ করেন।

নিজের ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর আগে অন্যান্য ওয়েবসাইট ও ব্যবসা গুলোকে দেখুন, তারা কেমন অফার দেয়, কোন পণ্যগুলো বেশি বিক্রি হয়, কিভাবে তারা ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে, কিভাবে তারা ডেলিভারি করে, কেমন দাম রাখে। ব্যবসা শিখতে গেলে সরাসরি ব্যবসা কিভাবে চলে সেটা দেখতে হয়। অন্যের ব্যবসা দেখেই আপনি সব থেকে ভালো শিখতে পারবেন।

কিছু ছোট ছোট ব্যাপার ই-কমার্স ব্যবসাকে ক্রেতার কাছে নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারে, যেমন: আপনার প্রতিষ্ঠানটি যদি ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) -এর সদস্য হয়ে থাকে; সদস্য হিসেবে যদি আপনার ব্যবসাটি সব নিয়ম কানুন মেনে চলে, ওয়েবসাইটে যদি ই-ক্যাবের মেম্বারশিপ লোগো থাকে।

ওয়েবসাইটকে নিরাপদ করার জন্য যদি ওয়েবসাইটে এসএসএল সার্টিফিকেট থাকে, যা একটি নিরাপত্তার চিহ্নও বহন করে। আপনার ওয়েবসাইট যদি একটি জনপ্রিয়, বহুল ব্যবহৃত ও নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়েয়ে সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, তাদের বৈধ লোগো যদি ওয়েবসাইটে থাকে।  একটি অর্ডার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার গ্রহণের নিশ্চয়তাস্বরূপ গ্রাহকের কাছে যদি কোম্পানির নাম থেকে এসএমএস এবং ই-মেইল যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *